July 18, 2026, 1:01 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুইজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রামে এ লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এলাকার অভিযুক্ত সন্ত্রাসী সামিরুল ইসলামের নেতৃত্বে দেবীনগর, হিজলাবট, খানপুর ও ওসমানপুর এলাকার ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেবীনগর গ্রামের অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার খবর পেয়ে ছালিম হোসেন বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
তবে ওই সময় বাড়িতে অবস্থান করছিলেন দেবীনগর গ্রামের ফারুক হোসেন, খানপুরের আব্দুল শেখ এবং শ্রীপুরের মুল্লুক মণ্ডল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত ফারুক হোসেন ও ছালিম হোসেন দুজনই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত। ফারুকের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর তিনি গত বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পান।
সূত্রের দাবি, একসময় সামিরুলের অনুসারী হিসেবে ছালিম ও ফারুক মাদক ব্যবসা পরিচালনা করলেও সম্প্রতি মাদকের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছালিমকে বাড়িতে না পেয়ে হামলাকারীরা ঘরে থাকা তিনজনের ওপর চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই ফারুক হোসেন ও আব্দুল শেখ নিহত হন। গুরুতর আহত মুল্লুক মণ্ডলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। খবর পেয়ে খোকসা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
জোড়া খুনের ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
খোকসা থানা পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদক ব্যবসার অর্থ ভাগাভাগি ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, “শুক্রবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে রাত ১টার দিকে সামিরুল গ্রুপ ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে দুইজন নিহত হন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”